রূপকথার নায়ক সিরাজউদ্দৌলা

উম্মে আরজুম : আরিফ সাহেব প্রতিদিনকার মতো দহলিজে বসে কুরআন পড়ছেন। বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সালেহা ও আমিরুলের আজ স্কুল বন্ধ। এই মাত্র পড়ার টেবিল থেকে উঠে এসেছে। বৃষ্টির দিনে গল্প শুনতে তাদের ভালই লাগে।
সালেহাই প্রথম বললো আমিরুলকে, চলো না ভাইয়া দাদুর কাছে গল্প শুনি। হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস, তাই করতে হবে। বললো আমিরুল। দু’জনে দৌড়ে গেলো দহলিজে দাদুর কাছে। আরিফ সাহেব দেখেই জিজ্ঞেস করলেন, কি দাদুরা, লেখাপড়া শেষ হলো? হ্যাঁ দাদু। এখন কি দুষ্টুমি করবে, না পুতুল খেলে সময় কাটাবে।
না দাদু, আমরা কিন্তু একটা উদ্দেশ্য নিয়ে তোমার কাছে এসেছি, বললো, সালেহা। হ্যাঁ দাদু বলে ফেলো তাহলে। উদ্দেশ্যটা কি তাতো জানতে হবে।
আমরা তোমার গল্প শুনবো। বাহ! আমার দাদুরা দেখছি আজকাল অনেক ভাল হয়ে গেছে। বলবো, অবশ্যই বলবো। তাহলে ঠিক করে নাওতো কোন গল্পটা বলা যায়। আমাদের স্যার গতকাল বলেছেন, সিরাজউদ্দৌলা নামে নাকি একটি বিখ্যাত নাটক আছে, দাদু সেটাই বলো। বললো সালেহা। ঠিক আছে দাদু, একটা বুদ্ধিমানের কথাই বলেছ। ঐ সিরাজ নাটকটিই তো হলো আমাদের বাঙালি মুসলমানদের ইতিহাস। সে ইতিহাস শুনলে তোমাদের কাছে হয়তো রূপকথার গল্পের মতোই মনে হবে। কিন্তু রূপকথার গল্প নয়। সেটা আসলেই সত্য গল্প।
সে যাই হোক। আজ থেকে ২৪৪ বছর আগের কথা। তখন পাক-ভারত বাংলা উপমহাদেশ শাসন করতো মুসলমানরা। আর ঐ সময় বাংলার নবাব কে ছিলেন জানো? তখন নবাব ছিলেন আলীবর্দী খাঁ। তারা এক সময় তুর্কিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন। আলীবর্দী খাঁর কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তার ছিল তিন কন্যা। এরা হলেন- মেহেরুন্নেসা, যাকে সবাই ঘসেটি বেগম বলে জানতো। তারপর ময়মুনা বেগম আর সর্বশেষ হলো আমিনা বেগম। তখন পাটনার শাসনকর্তা ছিলেন নবাবের একমাত্র ভাই হাজী আহমেদ। এই হাজী আহমেদেরও ছিল তিন ছেলে। আলীবর্দী খাঁ যথাসময়ে তার তিন কন্যার সাথে ভাই হাজী আহমেদের তিন ছেলের বিবাহ দেন।
১৭৩৩ সাল। নবাব আলীবর্দী খাঁর কন্যা আমিনার ঘরে জন্ম নিলো চাঁদের মতো ফুটফুটে একটি ছেলে। তার সৌন্দর্যে সারা উপমহাদেশ আলোকিত হয়ে গেল। নানা আলীবর্দী তখন বাংলার নবাব। তিনিতো মহা খুশি। এত সুন্দর নাতির কি নাম রাখবেন তা নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেলেন। তারপর ঠিকই সুন্দর একটি নাম রাখলেন। নামটি হলো মুহাম্মদ। এই আমিনার ছেলে মুহাম্মদই তো আমাদের ইতিহাসে যোগ করে গেছেন একটি অধ্যায়। এ অধ্যায়টি যেমনি করুণ তেমনি গৌরবোজ্জ্বল। এই মুহাম্মদের ছোটবেলার নাম কি ছিল জানো? আলীবর্দী খাঁ নিজের নামানুসারে নাতির নাম রাখলেন মীর্জা মুহাম্মদ। মাত্র তেইশ বছর বয়সে উপাধিসহ তার পুরো নাম হলো নবাব মনসুর-উল-মুলক সিরাজ-উদ-দৌলা শাহকুলী খাঁ মির্জা মুহাম্মদ হায়বৎ জঙ্গ বাহাদুর। বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা। কি বুঝলে দাদুরা! হ্যাঁ দাদু, তাতো বুঝলাম, কিন্তু সিরাজের পিতার নাম কি তাতো বললেন না? বলে উঠলো আমিরুল। ও, ও কথা, তাহলে বলছি শোন। নবাব সিরাজের পিতার নাম জয়ন উদ্দীন আহমেদ।
সিরাজ ছিল সুদর্শন। নানা আলীবর্দী সিরাজকে খুবই আদর করতেন। তিনি নাতি সিরাজকে ¯েœহের সঙ্গে লালন-পালন করেন। যেহেতু ছোট বেলায় সিরাজের পিতা মারা যায় এ কারণে মুর্শিদাবাদের হীরাঝিল প্রাসাদে মা আমিনা ও পুত্র সিরাজকে স্থান  করে দেন। এই হীরাঝিল প্রাসাদে সিরাজ মাকে নিয়ে থাকতেন। এখান থেকেই তিনি জীবনের যাত্রা শুরু করেন।
শৈশবে সিরাজ কেমন ছিলেন জানো দাদু? তিনি ছিলেন চঞ্চলমতি কিশোর। কিন্তু তিনি নিয়মিত নামায আদায় করতেন। সত্য কথা বলতেন।
১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল। নানা আলীবর্দী খাঁ ইন্তেকাল করেন। এ সময় সিরাজ অসহায় হয়ে পড়েন। হয়ে গেলেন অভিভাবকহীন। নানার ইচ্ছা অনুসারে ২৩ বছর বয়সে বাংলার নবাব হলেন তরুণ সিরাজ-উদ-দৌলা। সিংহাসনে আরোহনের পর সিরাজের একমাত্র চিন্তা ও ভাবনা হয়ে উঠলো ভেতর-বাইরের সকল চক্রান্তের মুখে কি করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। বয়সে তরুণ হলে কি হবে দাদু, সিরাজের রাজনৈতিক পাঠ ছিল অত্যন্ত নির্ভুল। সিরাজ বুঝতে পারলেন ইংরেজরাই স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। ১৬৯০ সালে বাণিজ্যের নামে সুতানটি গ্রাম ক্রয় করে ক্রমে ক্রমে তারা কলকাতা ও গোবিন্দপুরসহ নগরীর গোড়াপত্তন করে এবং সেখানে দুর্গ গড়ে তুলে। এরপর একদিকে মারাঠা শক্তি অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ দরবারের বিশ্বাসঘাতকদের সাথে ইংরেজদের গোপন সম্পর্ক স্থাপনের পর ইংরেজদের মতিগতি সিরাজের কাছে ভাল ঠেকেনি। তিনি ইংরেজদের উৎখাত করার শপথ নেন। কিন্তু মীরজাফর আলী খাঁ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। মুর্শিদাবাদের মসনদের প্রতি তার লোভ ছিল। সিংহাসনের লোভে তিনি পাগল হয়ে উঠেন। তার সাথে যোগ দিলেন উমিচাঁদ, রায়দুর্র্লভ, রাজবল্লব এবং আরো কয়েকজন। এদিকে পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা সিরাজের খালাতো ভাই শওকত জঙ্গও নবাবকে মসনদ থেকে অপসারণের জন্যে গোপন চেষ্টা করতে লাগলো।
১৭৫৭ সাল। পলাশী প্রান্তর। আচ্ছা দাদু তোমরা কি বলতে পারো পলাশী প্রান্তর কোথায় অবস্থিত? হ্যাঁ, তাহলে বলছি শোন। পলাশী প্রান্তর হলো নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানায় অবস্থিত। সেদিন ছিল ২৩ জুন। ক্লাইভের সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন নবাব। ষড়যন্ত্র মোতাবেক সিপাহশালার মীরজাফর আলী খাঁসহ নবাবের হাজার হাজার পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈন্য নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকলো। নবাব সিরাজ মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা বুঝতে পারেন। শোচনীয় পরাজয় ঘটলো নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার। বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরকে ইংরেজ ক্লাইভ বাংলার মসনদে বসালেন। কি নির্মম আচরণ দেখালেন মীরজাফর আলী খাঁ। যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে এলেন সিরাজ। সিদ্ধান্ত নিলেন, এ অঞ্চল ত্যাগ করতে হবে।
দুঃসাহসী বাংলার হতভাগ্য নবাব সিরাজ বেগম লুৎফুন্নেসা, তার চার বছরের কন্যা জোহরা, একজন বিশ্বস্ত পরিচারিকা ও একজন ভৃত্যসহকারে রাতের অন্ধকারে রাজমহলের দিকে নৌকাযোগে তার প্রসাদ হীরাঝিল ত্যাগ করেন।
নবাব সিরাজের মুর্শিদাবাদ ত্যাগের সংবাদ ২৪ জুন সকালে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। নবাবকে বন্দী করার জন্য মীরজাফর চারদিকে লোক পাঠান এবং পুরস্কার ঘোষণা করেন।
এদিকে মাঝিমাল্লাগণ অবিরাম নৌকা চালাতে গিয়ে ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ে। তারা নবাবের অনুমতি নিয়ে রাজমহল থেকে কয়েক মাইল দূরে নদী তীরের এক ভাঙ্গা প্রাসাদে রাত্রি যাপনের জন্য উপস্থিত হন। এই প্রাসাদে জনৈক দানিশ শাহ নবাবকে চিনতে পেরে অর্থলোভে মীরজাফরের সহোদর মীর দাউদকে সংবাদ দেয়।
১৭৫৭ সালের ২রা জুলাই নবাব সিরাজকে সপরিবারে বন্দী করে মুর্শিদাবাদে আনা হয়। তখন ছিল দুপুর বেলা। অগণিত প্রজা সাধারণ তাদের প্রাণপ্রিয় নবাবকে একনজর দেখতে আসে। নবাব সিরাজকে মীরজাফরের পাপিষ্ঠ পুত্র মীর মিরন জাফরগঞ্জ প্রাসাদে বন্দী অবস্থায় রাখে। এই জাফরগঞ্জ প্রাসাদকে এখন বলা হয় নিমকহারাম দেউড়ি। এই প্রাসাদের একটি ক্ষুদ্র কক্ষে বন্দী করে রাখা হয় নবাব সিরাজকে। লর্ড ক্লাইভের পরামর্শে মীরজাফরের নির্দেশে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বলতে বলতে এক সময় দাদুর চোখ থেকে গড়িয়ে পানি পড়তে লাগলো। দাদু একনাগাড়ে বলে যাচ্ছেন। জানো দাদু, বয়সে তরুণ হলে কি হবে, সিরাজ ছিলেন গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী। এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না। ঘাতক যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যোত হয়, একটি মাত্র অনুরোধ ছিল তার। প্রাণ ভিক্ষা নয় ওজু করে দু’রাকাত নামাজ আদায়ের সুযোগদানের অনুরোধ করে কিন্তু এ অনুরোধ রক্ষা করেনি ইংরেজের সেবাদাস নবাবের বেতনভুক্ত কর্মচারী ঘাতক। অবশেষে ৪ঠা জুলাই মিরণের আদেশে মোহাম্মদী বেগ নামীয় নবাব সিরাজের মাতামহীর পালিতা দাসীর স্বামী সিরাজের অসামান্য রূপ লাবণ্যময় দেহটি উপর্যুপরি তরবারির আঘাতে টুকরো টুকরো করে ফেলে। তারপর সেই ছিন্নভিন্ন দেহ পরদিন সকালে হাতীর পিঠে চাপিয়ে বেরুলো আনন্দ মিছিলে। নেতা মিরণ, চললো রাজপথ পরিভ্রমণে। হাতী সিরাজের বাসভবন, হীরাঝিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। সিরাজের মাতা আমিনা বেগম সিরাজের হত্যার সংবাদ পেয়ে রাজপথে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসেন। সে কি মর্মান্তিক দৃশ্য দাদু! কি নির্মম ইতিহাস।
পুত্রহারা আমিনা বেগমের কান্নায় আকাশ-বাতাস শোকাহত ও ব্যথিত হয়ে ওঠে। তিনি হাতীর পিঠ থেকে নবাবের লাশ নামিয়ে চুম্বন করতে লাগলেন। মায়ের আহাজারি দেখে শববাহী হাতী চালকের নির্দেশ অমান্য করে সহসা রাজপথে বসে পড়লো। কিন্তু মিরণের নির্দেশে বিশ্বাসঘাতক খাদিম কিল, ঘুষি মেরে নবাবের কন্যা, স্ত্রী ও মামা আমিনাকে জোর করে অন্দরমহলে পাঠিয়ে দিলো। এরপর সিরাজের দলিতমথিত লাশ বাজারের আবর্জনার স্তূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেলো।
সারাদিন সিরাজের লাশ পড়ে থাকলো মুর্শিদাবাদের বাজারের সেই ময়লার স্তূপের উপর। ভয়ে কেউ এগিয়ে এলো না লাশ দাফনের জন্য। সন্ধ্যার অন্ধকারে ভাগীরথী যখন রূপার পাতের মত বয়ে যাচ্ছে, আতঙ্কিত মানুষ নিজ নিজ গৃহে খুঁজে বেড়াচ্ছে নিরাপত্তা, সে সময় মির্জা জৈন-উল-আবেদিন অত্যন্ত যতœ সহকারে বুকে তুলে নিলেন সিরাজের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ। তারপর তাজিমের সাথে ধুয়ে মুছে নৌকায় তুলে, ভাগীরথী পাড়ি দিয়ে চললেন খোশবাগে। এখানেই নানার কবরের পাশে সযতেœ মাটিতে শুইয়ে দিলেন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে।
কোথাও সেদিন বিউগল বাজেনি। প্রাচীন কামানবাহী শকটে করে লাশ নেয়া হয়নি। শোক মিছিল হয়নি। হয়নি ৩১ বার তোপধ্বনি। লোকচক্ষুর আড়ালে একজন মানুষ মাটি দিয়ে ঢেকে দিলেন সিরাজের লাশ।
খোশবাগ বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডিকে বুকে নিয়ে সেই থেকে নীরব নিথর হয়ে রয়েছে।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সালেহা বললো, দাদু তারপর কি হলো? নবাবের বুঝি আর কেউ থাকলো না। দাদু চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, দাদু, নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনাবসান ঘটিয়েও স্বস্তির হতে পারলেন না ষড়যন্ত্রকারীরা। বিশেষ করে ক্লাইভ চাইলেন সিরাজের বংশের সকলকে হত্যা করতে। তা না হলে একদিন প্রতিশোধ নিতে দাঁড়াবে এরা। ফলে মিরণের আদেশে বেগম শরফুন্নেসা, আমিনা বেগম, লুৎফুন্নিসা এবং একদা ষড়যন্ত্রকারিণী ঘসেটি বেগমকে প্রেরণ করা হলো ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে। ঢাকার নায়েব নাজিম জসরত খান থাকলেন তার প্রহরায়। মিরণ হুকুম করলেন, সবাইকে হত্যা করতে। জসরত খান চাইলেন নবাবের নির্দেশ। নবাব মীরজাফর বললেন, সবাইকে মুর্শিদাবাদ পাঠাও। পথিমধ্যে বুড়িগঙ্গায় নৌকা ডুবিয়ে হত্যা করা হলো ঘসেটি বেগম ও আমিনা বেগমকে। পরে তাদের লাশ খোশবাগে আনা হয়। বাকি রইলেন সিরাজ ভ্রাতা মিরজা মেহেদী, লুৎফুননেসা এবং সিরাজ কন্যা উম্মে জোহরা।
সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর সময় ভ্রাতা মেহেদীর বয়স মাত্র পনের বছর। তাকে পাথর চাপা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল জাফরগঞ্জ প্রাসাদে। এবার তাকে হত্যার উদ্যোগ নিলো মিরণ। অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হলো মিরজা মেহেদীকে। দুই পাশে দুটি তক্তা বেঁধে প্রচ- চাপ দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো তাকে। তারপর মিরজা মেহেদীর তেথলানো লাশ এনে কবর দেয়া হলো সিরাজের কবরের পাশে।
লুৎফুননেসা আত্মসমর্পণ করলেন না, তিনি চার বছরের শিশু কন্যা উম্মে জোহরাকে নিয়ে বেছে নিয়েছিলেন ঢাকার লাঞ্ছিত-অপমানিত কারাজীবন। আট বছর পর সিরাজের কবরের পাশে বসবাসের অনুমতি পেলেন লুৎফা। ১৭৬৫ সাল থেকে ১৭৮৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছর অনাহারে-অর্ধাহারে এখানেই কাটিয়েছেন তিনি। এভাবেই একদিন লুৎফুননেসাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলো। স্বামী বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব রূপকথার নায়ক সিরাজউদ্দৌলার কবরের উপর।
দাদু আর নাতিদের কারো মুখে কথা নেই। সবাই নীবর হয়ে গেলো, তখন সে আমিরুল ও সালেহার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে টেরই পেলো না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. Online casinos: why you should always play at the casinos
    It is always good to have a deposit bonus. We make sure that our online casinos are 온라인 카지노 Play on many of aprcasino.com the casino sites in septcasino the 출장마사지 UK and Europe, wooricasinos.info

    উত্তরমুছুন